*** রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার ***
আবু ইউছুপ মিন্টু :
কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট ইজারায় পরশুরামে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় সুবিধাভোগী জনপ্রতিনিধির সিন্ডিকেটের কব্জায় রয়েছে। ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করলেও তা ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা করা হয়নি। ফলে আশানুরুপ আবেদন জমা না পড়ায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হাতেগোনা কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্য নামমাত্র ইজারা মূল্য দিয়ে আবেদন করে অস্থায়ী পশুর হাট বরাদ্দ নেয়ায় গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা-প্রক্রিয়ার এ চিত্রই বলে দিচ্ছে, এবার নূন্যতম রাজস্বও সরকারি কোষাগারে জমা পড়বে না। অভিযোগ রয়েছে এসব হাট ইজারা নিতে তৎপর রয়েছেন বেশিরভাগ ইউপি সদস্য ও তাদের ঘনিষ্ট লোকজন। তাদের সহযোগিতা করছেন উপজেলা পরিষদের অসাধু কর্মচারীরা।
সূত্রে জানা গেছে, পরশুরাম উপজেলা ৩টি ইউনিয়নে ৭টি অস্থায়ী গো-ছাগলের হাট-বাজার রয়েছে। এসব অস্থায়ী পশুর হাট নাম মাত্র দর দিয়ে মনের মত করে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। গত ১০ বছর ধরে ইউএনও অফিসের কর্মচারীদের সাথে কারসাজি করে কোরবানির গো-ছাগলের হাটবাজার ভাগবাটোয়ারা করে নেন তারা। পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মাঈন উদ্দিনের যোগসাজসে সিন্ডিকেটের বাইরে অন্য কারো কাছে গো-ছাগলের হাট বাজারের দরপত্র বিক্রি করছেন না।
উপজেলার ৭টি গো-ছাগলের অস্থায়ী হাট বাজার নামমাত্র দর দিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নিলেন যাদের মধ্যে বেশীর ভাগ স্থানীয় ইউপি সদস্য, বাকীরা নেতাদের ঘনিষ্টজন। সুবার বাজার ইজারা নিয়েছেন মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ এর সদস্য মাস্টার আবু বক্কর, ইউপি সদস্য মো ইয়াছিন, ইউপি সদস্য আবু জাহেদ। বটতলী বাজার ইজারা নিয়েছেন ইউপি সদস্য মহি উদ্দিন ছুট্টো, সফিকুর রহমান (ফকির মিয়া)।
শালধর বাজার ইজারা নিয়েছেন দক্ষিন শালধর গ্রামের জালাল আহাম্মদের ছেলে মো. খোকন, দরপত্র বৈধতা দিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন ও মো নুরুন নবীর নামে সিডিউল ক্রয় করেছেন। একইভাবে রাজষপুর সিডিউল ক্রয় করেছেন শাহাদাত হোসেন ও মহিমের নামে। বক্সমাহমুদ বাজারের সিডিউল ক্রয় করেছেন নুর হোসেন, আবদুল হামিদ, মো. ইমনের নামে।
ইজারা গ্রহীতারা প্রভাবশালী হওয়ায় কোরবানি অস্থায়ী পশুর হাটের দিন সরকারী নির্ধারিত হাসিলের চেয়ে দ্বিগুন- তিনগুন বেশী হাসিল আদায় করেন।
উপজেলা প্রশাসন আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উপজেলার ৭টি অস্থায়ী গো-হাটের ইজারা দেওয়ার জন্য সিডিউল বিক্রি শুরু করে। সিডিউল জমা দেয়ার শেষ তারিখ আজ ৭ আগস্ট।
ইউএনও অফিসের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মাঈন উদ্দিনের সাথে সুবিধাভোগী জনপ্রতিনিধিরা কারসাজি করে প্রথম দিন সিডিউল না করে দ্বিতীয় দফার তারিখে ক্রয় করে নামমাত্র দর দিয়ে সিডিউল জমা দিচ্ছেন। এতে সরকারের রাজস্ব হারাচ্ছে।
দরপত্র ক্রয়ে কয়েকজন আগ্রহী নাম প্রকাশ না করা শর্তে সিডিউল ক্রয় ও দর প্রদানে কারসাজির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানান।
মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বক্কর ছিদ্দিক তার নামে সিডিউল কেনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তার নামে সিডিউল কিনলেও কারসাজির বিষয় তিনি কিছু জানেন না।
ইউএনও অফিসের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মাঈন উদ্দিন জানান, সরকার দলীয় নেতারা তাকে সিডিউল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, এ বিষয়ে খতিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









