আবু ইউসুফ মিন্টু :
বৈশ্বিক সমস্যা (কোভিড-১৯)-এর ছোবলে বাস, ট্রাক, মাইক্রো, সিএনজি ও অটো চালকসহ পরিবহন শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫শতাধিক সিএনজি চালিত অটো রিকশা, শতাধিক বাস কোস্টার, প্রায় দুই হাজারেরও বেশি (ব্যাটারি) চালিত অটো রিকশা রয়েছে।
এসব পরিবহণ সেক্টর থেকে লক্ষাধিক টাকা মাসোহারা নিত আইনশৃঙ্খলা বাহীনি অথচ কেউ এখন তাদের খোঁজ নিচ্ছেনা।

করোনাভাইরাসের প্রাদুভার্বের কারনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারনে এসব পরিবহন দেড় মাসের মত চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক চালক কর্মহীন হয়ে পড়ায় আয়রোজগারের পথ সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের সংসার পরিচালনা করতে বেগ পেতে হচ্ছে চালকদের।
বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত স্থানীয় ভাবে যে পরিমান ত্রাণ সামগ্রী পেয়েছেন তা সামান্যতম।
অপরদিকে উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন অফিস সহকারী মো: শাহ আলম জানান সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এ পর্যন্ত
করোনাকালের শুরু থেকে পরশুরামে ৫ দফায় ১৪৫ মেট্টিক টন চাল, নগদ ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা ও ১০০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বরাদ্ধ পেয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
পরশুরাম এলাকার কয়েকটি স্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, সিএনজি ও অটোসহ সব ধরনের পরিবহণ শুন্য। দুই একটি গাড়ী থাকলেও অবসর সময় কাটাচ্ছেন চালকরা। তারা যাত্রীর অপেক্ষায় ভোর থেকেই অবস্থান করছিলেন। কিন্তু মিলছে না কাঙ্খিত যাত্রী।
সিএনজি চালক মহসিন বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের আগে দৈনিক প্রায় হাজার ১২শ টাকা রোজগার হতো। মালিকের জমা দিয়ে ভালোভাবেই সংসার চলতো।
কিন্তু বর্তমানে রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়াতে সংসারও চলছে না। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি এর আগে মোকাবেলা করেনি। তিনি আরো বলেন, আমার পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৬জন। এখন তিনবেলা খাবার জোগানই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় অটো চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির আগে দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০টাকা আয় করতে পারতাম। এখন তা হচ্ছে না। পরিবারে ৭জন সদস্য। তাদের খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি বা বেসরকারি কোনো ব্যক্তি বা পক্ষই এ পর্যন্ত তাকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করেনি। কর্মহীন হয়ে গৃহবন্ধি অবস্থায় আর কয়দিনই বা চলা যাবে। ‘সে চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।’
সিএনজির মালিক কবির আহাম্মদ বলেন, ঋণ নিয়ে দুটি সিএনজি ক্রয় করি। আগে প্রতিদিন ৫০০টাকা করে জমা নিতে পারতাম। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হত। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারনে এখন কিস্তির টাকা পরিশোধে কষ্ট হচ্ছে।
সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো : বাদল জানান টানা নিষেধাজ্ঞা কারণে গাড়ির চাকা না ঘুরায় পরশুরামে সিএনজি চালক সহ পরিবহণ শ্রমিকরা আয় রোজগার না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। বেশীর ভাগ চালক কিস্তির ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
বেশকজন চালক স্থানীয় ভাবে ত্রাণ সহায়তা পেলেও তা খুবই সামান্য তাদের পরিবার অভাব-অনটনের কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
চালকরা বিভিন্ন রুটে গাড়ী চালিয়ে মাসিক কিস্তি পরিশোধ করাসহ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু টানা নিষেধাজ্ঞা কারণে তারা গাড়ী চালাতে না পেরে তারা বেকার হয়ে পড়ছেন। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”
- » ফরহাদনগরে ছাত্রদল নেতা জিয়া উদ্দিনের ভয়ে বসতবাড়ি ছেড়ে পথে ঘুরছে বৃদ্ধা দুই অসহায় বোন









