স্টাফ রিপোর্টার :
দাগনভূঞা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বিজয়ী স্বতন্ত্র কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়ার নেতৃত্বে মো. হারুন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। গত রোববার (১৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় পৌরসভার গনিপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাউন্সিলর জিয়াসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দাগনভূঞা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও নির্বাচনের পর কাউন্সিলর জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর লোকজনদের দোকানপাট বন্ধের ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি প্রদানের অভিযোগ করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানায়, গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুক খান তৃতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার লোকজনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে রোববার সন্ধ্যায় গনিপুর বাজারে আসেন। এ সময় বাজারের হারুন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক মো. হারুন মেয়রের সাথে দেখা করতে গেলে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া তার ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে কাউন্সিলরের সাথে যোগদেন তার কর্মী-সমর্থকরাও। দফায় দফায় মারধর করা হয় ওই ব্যবসায়ীকে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা মেয়র ওমর ফারুক খান বহু কষ্টে তাদের নিবৃত্ত করেন। হামলায় ওই ব্যবসায়ীর ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহতাবস্থায় প্রথমে তাকে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার তাকে চট্রগ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ী হারুন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। তিনি দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করার পর থেকে জিয়াউল হক জিয়া তার ওপর ক্ষেপে রয়েছেন। ভোটের পর দিন সন্ধ্যায় মেয়র ওমর ফারুক খান গনিপুর বাজারে এলাকাবাসীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তিনিও তাঁর সাথে দেখা করতে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া তার ওপর হঠাৎই চড়াও হন। এমনকি কাউন্সিলর জিয়া তার কর্মীদেরও হামলায় অংশ নিতে নির্দেশ দেন। দুই দফা হামলায় তার ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। বিষয়টি তিনি ফেনী-২ আসনের সাংসদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীকে জানালে তিনি কাউন্সিলর জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করতে বলেন এবং এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেন।
কাউন্সিলর জিয়াসহ হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ঘটনাকে খুবই দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।
এদিকে কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের পরপরই প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ সমর্থিত উটপাখি প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রুবেলের কর্মী-সমর্কদের এলাকা ছাড়তে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদানের অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
চাঁনপুর এলাকার দোকানদার নুর নবী ও শহীদুল্লাহ জানান, ভোটের পরদিন তারা দোকান খুলতে গেলে জিয়ার লোকজন তাদের বাধা প্রদান করে এবং দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পাশবর্তী ওয়ার্ডের একজন নবনির্বাচিত কাউন্সিলর জানান, নির্বাচনের পরদিন চাঁনপুর এলাকার কয়েকজন দোকানদার অব্যাহত হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতিরমুখে তার শরণাপন্ন হয়েছেন। পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, নির্বাচনে তিনি আওয়ামী সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর ভোট কেন করেছেন- এই অপরাধে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। তা না হলে তার হাত-পা ভেঙে গুড়িয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন। এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা তার দায়িত্ব। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি কাউন্সিলর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে জানান।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, গনিপুর বাজারে হারুন নামে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনা তারা অবগত আছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, পৌর নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বর্তমান কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া সালাহ উদ্দিন রুবেল নামে স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মীকে নিজ হাতে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন। এ ঘটনায় পৌর নির্বাচনে ৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জিয়াউল হক জিয়াকে দল থেকে সমর্থন দেওয়া হয়নি। কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন পান জিয়ার হাতে মার খাওয়া রুবেল। এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন জিয়াউল হক জিয়া। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিয়া জয়লাভ করেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”
- » ফরহাদনগরে ছাত্রদল নেতা জিয়া উদ্দিনের ভয়ে বসতবাড়ি ছেড়ে পথে ঘুরছে বৃদ্ধা দুই অসহায় বোন









