**আইন ও বিধি পরিপন্থী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থার কথা জানালেন পুষ্টি প্রধান**
স্টাফ রিপোর্টার :
ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার ‘ মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন ২০১৩ ও বিধি ২০১৭ এবং পুষ্টিখাতের অর্জনবিষয়ক’ এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস সালেহীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল অফিসার ডা. জাকিয়া আলম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ‘মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন ২০১৩ ও বিধি ২০১৭ এর বিভিন্ন ধারা-উপ ধারা এবং পুষ্টিখাতে বর্তমান সরকারের অর্জন বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত তুলে ধরেন।
আলোচকেরা তাঁদের বক্তব্যে শিশুর জম্মের ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধের বিকল্প কোনো খাদ্য না খাওয়ানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। শিশুর জীবন রক্ষা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাসে একান্তভাবে বিকল্প খাদ্য অপরিহার্য বিবেচিত হলে “বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনে’ নিবন্ধিত কোনো মেডিকেল চিকিৎসক উপযুক্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে কেবল মাতৃদুগ্ধ বিকল্প খাদ্যের ব্যবস্থাপত্র ও পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জম্মের পর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য মায়ের দুধের বিকল্প কোনো খাদ্য ক্রয়-বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া কোনো ব্যক্তি মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য,বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর (ছয় মাসের পর হতে পাঁচ বছর পর্যন্ত) বাড়তি খাদ্য বা তা ব্যবহারের সরঞ্জামাদির আমদানি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, বিপণন, বিক্রয় বা বিতরণের উদ্দেশ্যে, কোনো বিজ্ঞাপন মূদ্রণ, প্রদর্শন, প্রচার বা প্রকাশ করা কিংবা অনুরূপ কোনো কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখাও আইনের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনো ব্যক্তি আইনের লংঘন করেন, তিনি অনূর্ধ্ব তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকার অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অপরদিকে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য বা তা ব্যবহারের সরঞ্জমাদির কারনে কোনো শিশু অসুস্থ হলে বা মৃত্যুবরণ করলে ওই খাদ্য ও সরঞ্জামাদি প্রস্তুতকৃত প্রতিষ্ঠান ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকার অর্থদন্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এবং অর্থদন্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে শিশুর পরিবারকে প্রদান করা হবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইনটি ২০১৩ সালে পাস হলেও বিধিমালা না হওয়ায় এতদিন বাস্তবায়নে যাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালে বিধিমালা হওয়ার পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা থাকায় আরেকটু বিলম্বিত হয়। এখন বিধিমালার অস্পষ্টতার নিরসন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনটির বাস্তবায়নে তারা শিগগিরই সারাদেশে শহর ও গ্রামে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। তার আগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রশাসন, সাংবাদিক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন কর্মশালার মাধ্যমে আইন সম্পর্কে ধারণা প্রদান ও সচেতন করা হচ্ছে।
কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ফেনী জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. সায়েদুল ইসলাম কাওসার, সাধারণ সম্পাদক ডা. বিমল দাশ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত কুমার চৌধুরী, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার রেজাউল রাব্বী মনির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলার ছয়টি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও এনজিও প্রতিনিধিগণ।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









