ফেনীতে ৩শ’র মতো প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও করোনার মহামারির কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকায় একেবারেই অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। আনন্দ-উচ্ছাসের মধ্য দিয়ে বাকী প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে শিক্ষার্থীরা, কর্মদক্ষতা হারিয়েছে শিক্ষকরা। এদিকে ছেলেরা পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে অন্যপেশায়, মেয়েরা বিয়ে পড়ে হয়ে গেছে গৃহিণী। অপরদিকে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাঝে অনেকে কোটি টাকারও ঋণগ্রস্থ। ফেনীর বিভিন্ন প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন দৈনিক অজেয় বাংলা সহ সম্পাদক সুরঞ্জিত নাগ।
করোনাকালীন দীর্ঘ ১৮ মাস পর বিদ্যালয় খুললেও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি পড়ালেখার প্রতি অনীহা, অমনোযোগী হড়ে পড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। আর শহরে যারা বসবাস করতো তাদের বেশিরভাগই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। শিক্ষার্থীর অভাবে প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে গেছে। করোনা শুরুর আগে নবম ও দশম শ্রেণি পড়–য়া মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেকেরই বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছেলেরা পড়ালেখা ছেড়ে অন্যপেশায়ও চলে গেছে। ঝরে পড়ার হারও অনেক। আবার সরকারি নির্দেশনা মতে বিদ্যালয় খোলা হলেও প্রতি সপ্তাহে একদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে বিমুখ হয়ে পড়বে বলে আশংকা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের আবাসিক-অনাবাসিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭শ থেকে ৮শ জন। এর আগে এ প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর পরিমাণ ছিল ১৩শ থেকে ১৪শ জন। প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এরমধ্যে আবাসিকে যেখানে ৩শ শিক্ষার্থী বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী আছে। পরিমাণে ১০ ভাগের এক ভাগে নেমেছে। এদিকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিল ৫১ জন, বর্তমানে আছেন ৪১জন। এরমধ্যে অনেকে পেশা পরিবর্তন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অচল হয়ে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। যেমন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সরওয়ার জাহান করোনার কারণে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে জীবিকার তাগিদে বিগ বাজার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও স্কুল ভবনের ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, আবাসিকে বাসা ভাড়া প্রদানসহ আনুষাঙ্গিক সকল খরচ নির্বাহ করতে হয়েছে। তবে শিক্ষকদের বেতন পুরোপুরি না দিতে পারলেও কোন কোন মাসে অর্ধেক বা কোন মাসে মূল বেতন থেকে কম এভাবে করে তাদের বেতন প্রদান করা হয়েছে। এ ব্যয়ে পরিশোধ করতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরই সাথে লোকসানের ঘানিও টানতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লুনা ফেরদৌস জানান, দেড় বছরে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষক বেতন ৩৫ লাখ টাকা, বাড়ি ভাড়া ২৫ লাখ টাকা ও শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণ ফান্ড থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা, গ্যাস বিল, বিদ্যুত বিলসহ আনুষাঙ্গিক ব্যয়খাতে এ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বর্তমানে শিক্ষার মানোন্নয়নে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিদিন শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানান তিনি। এছাড়া প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা দায়িত্ব নিয়েই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে দৈনিকের পড়া দৈনিক মুখস্থ করিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলেন। তাই সপ্তাহের বিরতিতে বিদ্যালয়ে আসলে ওইভাবে ছেলে-মেয়েরা এগোতে পারবে না। অন্তত সপ্তাহে তিনদিন হলেও যেন শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যায় সেজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”
- » ফরহাদনগরে ছাত্রদল নেতা জিয়া উদ্দিনের ভয়ে বসতবাড়ি ছেড়ে পথে ঘুরছে বৃদ্ধা দুই অসহায় বোন
- » বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটির পরিচিতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সভা
- » বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রোডমার্চ ফেনী ছাড়লো- দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত
- » সাপ্তাহিক ফেনী সংবাদ এর প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত









