ফেনীতে ৩শ’র মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও করোনার মহামারির কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকায় একেবারেই অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। আনন্দ-উচ্ছাসের মধ্য দিয়ে বাকী প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে শিক্ষার্থীরা, কর্মদক্ষতা হারিয়েছে শিক্ষকরা। এদিকে ছেলেরা পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে অন্যপেশায়, মেয়েরা বিয়ে পড়ে হয়ে গেছে গৃহিণী। অপরদিকে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাঝে অনেকে কোটি টাকারও ঋণগ্রস্থ। ফেনীর বিভিন্ন প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন দৈনিক অজেয় বাংলা সহ সম্পাদক সুরঞ্জিত নাগ।
ফেনী জেলায় প্রায় ৩শ বেসরকারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এরমধ্যে করোনাকালীন দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রায় ৫০টির মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও বিলীন হয়ে গেছে। আরও দেড়শটির অবস্থাও নাজুক। এতে করে পড়ালেখার প্রতি ছেলে-মেয়েরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর পড়ালেখার মনোভাব হ্রাস পেয়েছে। এরমধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনাই বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্কুল ভবন ও বাড়ি ভাড়া চালাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালকরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৬ মাসের ভাড়াও বকেয়া রয়েছে।
ফেনী জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি এম মামুনুর রশীদ জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে শহরের শহীদুল্লা কায়সার সড়কে ফেনী মেরিট একাডেমী, আলহাজ্ব শামছুল হক ভূঁঞা আদর্শ একাডেমী, পাগলা মিয়া সড়কে প্রাইম আইডিয়াল একাডেমী, শিক্ষা নিকেতন ইনস্টিটিউট, নাজির রোডে ইস্ট ওয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও সৃজনী গ্রামার স্কুলসহ বেশ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে।
শান্তি কোম্পানী রোডে ফেনী সিটি গার্লস হাই স্কুলে করোনার আগে শিক্ষার্থী ছিল ৬শ জন। বর্তমানে আছে ৫শ’র মতো। দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১জন ও করোনা আগে ৮ম শ্রেণি পড়–য়া দুই-তিনজন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানে দুই বছর আগে ২৫জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও বর্তমানে শিক্ষকের পরিমাণ কমে ২০জনে এসে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে স্কুল ছেড়ে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষকরা পেশা পরিবর্তন করে ফেলেছে। ইমদাদুল হক ও হাসানুজ্জামানসহ আরো অন্যান্য শিক্ষক বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসায়ের সাথে জড়িত হয়ে গেছেন।
মামুনুর রশীদ জানান, তাঁর মালিকানাধীন ফেনী সিটি গার্লস হাই স্কুল করোনার থাবায় বন্ধ থাকায় দেড়বছরে আট লক্ষাধিক টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্কুল বন্ধ থাকলেও তিনি শিক্ষার্থীদের সরকারি এ্যসাইনমেন্টের পাশাপাশি হোমওয়ার্ক এবং অনলাইনে ক্লাস চালু রেখে পড়াশোনায় মনোনিবেশ রাখতে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিধিনিষেধ মেনে স্কুল খুললেও শিক্ষার্থীরা মাসে গড়ে তিন বা চারদিন ক্লাস পাচ্ছে। এর পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়। অন্তত সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস চালু রাখতে তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান। তিনি মনে করেন, এতে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়া থেকে কিছুটা উন্নতির দিকে ধাবিত হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









