স্টাফ রিপোর্টার :
ফেনীতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের আশ্রম, মন্দির, দোকানপাটে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। তারা হলেন- বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার তৌওহিদুল ইসলাম জিদান (১৯) ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বড়হালিয়া গ্রামের গোলাম মোরশেদ খান (২০)। তারা আদালতে আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান ছাড়াও হামলা-ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেছে। যদিও তারা সব হামলাকারীকে চিনতে পারেনি।
২৪ অক্টোবর, রোববার বিকেলে দুই আসামী তৌওহিদুল ইসলাম জিদান (১৯) ও গোলাম মোরশেদ খানকে ফেনীর আদালতে হাজির করা হয়।
তারা গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে তৌওহিদুল ইসলাম জিদান। তিনি আদালতকে জানান, তার বাড়ী বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ হলেও তিনি গত কয়েক বছর ফেনী শহরের পশ্চিম উকিল পাড়ায় পরিবার পরিজনের সাথে বসবাস করেন। স্থানীয় একটি বহুমূখী সমবায় সমিতিতে চাকুরী করেন। ওই দিন (১৫ অক্টোবর) বিকেলে তিনি তার সমিতির কাজে শহরের লালপুল এলাকায় ছিলেন। মাগরিবের নামাজের আগে তাঁর দুই বন্ধু তাকে শহরের ট্রাংক রোডের বড় মসজিদের সামনে যেতে বলেন।
মসজিদের সামনে গিয়ে আরও কয়েকজন পরিচিত বন্ধুকে সেখানে দেখতে পান। এছাড়া আরও বেশ কিছু অপরিচিত লোকজনও ছিল। তখন পাশের মন্দিরের সামনেও বেশ কিছু লোকজন ছিল। তাদের সাথে কিছু ইটপাটকেল বিনিময় হয়। তখন পুলিশ তাদেরকে মসজিদে এবং হিন্দুদেরকে মন্দিরে ঢুকিয়ে দেয়।
মাগরিবের নামাজের পর তার আবার মসজিদ থেকে বের হয়ে সামনে জড়ো হয়। আবারও ইটপাটকেল বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে তারা ৩০-৩৫ জন শহরের মডেল হাই স্কুলের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। সেখানে বিজিবি তাদের ধাওয়া করে। পরে তারা শহরের গাজীগঞ্জ মহাপ্রভুর আশ্রমের সামনে চলে যায়।
সেখানে আশ্রমের সামনে একটি গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করেন এবং আশ্রম ও মন্দিরের জানালা, কিছু আসবাবপত্র ভাংচুর করে। সেখানে তার পরিচিত ১২-১৪ জন ছিল। বাকীদেরকে সে চিনতো না। তারপর সেখান থেকে বাসায় চলে
যায়। শুক্রবার পুলিশ তাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেন।
অপরদিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট
আবদুল্লাহ খান ১৬৪ ধারায় আসামী গোলাম মোরশেদ খানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহন করেন। গোলাম মোরশেদ ফেনীর স্থানীয় একটি বেসরকারী পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটে লেখাপড়া করেন। ১৫ অক্টোবর বন্ধুদের ফোন পেয়ে শহরের বড় মসজিদের সামনে যায়। সেখানে তার পরিচিত আরও কয়েকজনকে দেখতে পায়। সেও তার বন্ধু একই মামলার আসামী হয়ে গ্রেপ্তার তৌওহিদুল ইসলাম জিদানের সাথেই ছিল।
ইটপাটকেল নিক্ষেপ থেকে শুরু করে মন্দিরে হামলায় ঘটনায় জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা -ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমরান হোসেন জানান, ফেনীতে গত ১৫ অক্টোবর রাতে শহরের কালীপাল গাজীগঞ্জ মহা প্রভুর আশ্রম-মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং শহরের ট্রাংক রোডে বড় মসজিদের সামনে সংঘর্ষে জড়িত দুই আসামী তৌওহিদুল ইসলাম জিদান ও গোলাম মোরশেদ খান রোববার ফেনীর বিচারিক হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনবন্দি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়েছে। যা মামলা তদন্তে ও ঘটনার মূল নায়কদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান শেষে তাদের দুইজনকে ফেনী কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









