স্টাফ রিপোর্টার :
ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা ছাগলনাইয়া চলতি আমন মৌসুমে প্রথমবারের মতো মাঠে কৃষক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৯০। মাত্র ৩৩শতক জমিতে চাষ করা এ উচ্চফলনশীল আধুনিক জাতের সুগন্ধি ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
চিকন দানার এ সুগন্ধি ধানে হেক্টর প্রতি উৎপাদন পাঁচ টন হওয়ায় তা উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় স্থানীয় পশ্চিম দেবপুর ধানের মাঠে কেবল পুষ্পায়ন হচ্ছে। ধান রোপণ করার মাত্র ১২২ দিনেরও কম সময়ে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এ জাতের ধান নিয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
যেসব জমি মাঝারি উঁচু বা উঁচু সেখানে এ ধান চাষ করে মধ্য কার্তিকেই ধান কাটার পর সেখানে রবিশস্য চাষ বিশেষ করে সরষে, আলু, শাক-সবজি করা সম্ভব হবে। সাধারণত এ এলাকায় স্থানীয় জাতের আমন ধান অনেক দেরিতে পাকায় নতুন কোনো ফসল চাষ করা যায় না। ফলে এলাকার বেশিরভাগ জমি এক ফসলি এবং তা বছরের সাত থেকে আট মাসই ফাঁকা পড়ে থাকে। ব্রি ধান-৯০ একদিকে মাত্র চার মাসের মধ্যেই পাকে এবং ফলনও বেশি। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছে অন্য জাতের ধান হেক্টর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদন সাড়ে তিন থেকে চার টন। সেখানে ব্রিধান পাঁচ টন পর্যন্ত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব।
সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প, মুহুরী সেচ প্রকল্প বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক উপজেলার পশ্চিম দেবপুর গ্রামের স্থানীয় কৃষক মো. আবদুল হাই এর নিকট বিনামূল্যে ব্রি-ধান ৯০ বীজ প্রদান করা হয়। তিনি এবারই প্রথম এ জাতের ধান চাষ করেন। তার জমিতে ধান পাকার পর ফলন থেকে অনেকেরই এ ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। মো. আবদুল হাই তার এক বিঘা জমিতে ১৬ মণ ফলন পাওয়ায় খুবই খুশি।
তিনি বলেন, এত অল্প জমিতে চিকন ধানের এভাবে ভালো ফলন পাবো ভাবতেই পারিনি। এলাকার অনেকেই বীজ চেয়েছেন। তিনি আগামী বছর আরো বেশি জমিতে এ ধান চাষ করবেন।
সোমবার (১ নভেম্বর) দুপুরে এডিবির অর্থায়নে সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প-মুহুরী সেচ প্রকল্প, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্চফলনশীল আধুনিক জাত সম্প্রসারণে রোপা আমন ধান উৎপাদন প্রদর্শনীর মাঠ দিবস ছাগলনাইয়ার মহামায়া ইউনিয়নে পশ্চিম দেবপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাপাউবো ফেনীর তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাসীর উদ্দিন।

সেচ ব্যবস্থাপনা অপারেটর আইএমআইপি-এমআইপি বাপাউবো ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এস এম আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম ও বাপাউবো ফেনীর উপ প্রধান সম্প্রসারণ অফিসার মো. মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। বক্তব্য রাখেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফাকাত রিয়াদ, পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশন এমআইপি ফেনীর সেক্রেটারী আব্দুল হাই ভূঁইয়া, কৃষক মো. আবদুল হাই। এ সময় স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রসারণ ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার মজুমদার জানান, এ ধানের চাল বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। কেবল এই এলাকাতেই নয়, সারাদেশে আগাম আমন ধান হিসেবে ব্রি ধান-৯০ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে এমনটাই আশা করেন তিনি। গত ২০১৯ সালে এ জাতটি মাঠ পর্যায়ে চাষে ছাড়পত্র দেয় বীজ প্রত্যায়ন বোর্ড।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”
- » ফরহাদনগরে ছাত্রদল নেতা জিয়া উদ্দিনের ভয়ে বসতবাড়ি ছেড়ে পথে ঘুরছে বৃদ্ধা দুই অসহায় বোন









