স্টাফ রিপোর্টার :
ফেনীতে হিন্দুদের আশ্রম, মন্দির ও দোকানপাটে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) ফেনী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আতাউল হকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার দিন সেখানে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
আদালত সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তদন্ত দল সরেজমিনে গাজীগঞ্জ মহাপ্রভুর আশ্রম, ট্রাংক রোডের কালিমন্দির, ফেনী বড় বাজারের কালিমন্দির এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা ঘটনাস্থলের পাশে অবস্থিত দোকানের মালিক, কর্মচারী, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও উপস্থিত লোকজনের সাথে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে ১১ জন স্থানীয় সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ভাংচুরের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। ঘটনার দিন পোড়া গাড়ির স্থিরচিত্র সংগ্রহ করেন। ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র, সূচী ও সূচীর ব্যাখ্যা প্রস্তুত করেন।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজ উদ্দিন, কামরুল হাসান ও ফাতেমা তুজ জোহরা মুনা। এসময় ফেনীর কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. গোলাম জিলানী উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষীগণ দূর্গাপুজার দশমীর পরের দিন রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মহাপ্রভুর আশ্রমে ভাংচুর, অগ্নিকান্ডের তান্ডবসহ ওই রাতের ঘটনাবলী বিচার বিভাগীয় তদন্ত টিমের কাছে বর্ণনা করেন।
পরিদর্শনের সময় আশ্রমের সেবায়েত,মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।
চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহির আহমদ মজুমদার জানান, সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং- ৮৯৩০/২১ মামলায় গত ২৮ অক্টোবর এর আদেশমূলে দেশের কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও রংপুর জেলায় গত ১৩ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়, তাদের সম্পত্তি ও তীর্থস্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এর আলোকে সরেজমিনে পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে ফেনীর ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রসঙ্গত; গত ১৬ অক্টোবর রাতে ট্রাংক রোডে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ট্রাংক রোডের শ্রীশ্রী জয়কালী মন্দির, বড় বাজারের রাজকালীমন্দির, কালীপাল গাজীগঞ্জ মহাপ্রভুর আশ্রম, তাকিয়া রোডে হিন্দুদের বেশ কিছু দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ, র্যাব ও মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ফেনী মডেল থানায় ৪টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। র্যাব, সিআইডি ও পুলিশের অভিযানে এ যাবত ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মন্দিরে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









