শহর প্রতিনিধি :
ফেনীতে তিন বছরের একটি শিশু হত্যার দায়ে ওই শিশুর চাচীর যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় ঘোষনা করেছে আদালত। এছাড়া আসামীর ৫০ হাজার টাকা র্অথদন্ড করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। তার নাম র্আজিনা আক্তার। তিনি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের
মোহাম্মপুর গ্রামের কামাল হুজুরের বাড়ীর মাওলানা আবুল বসরের স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ বেগম
জেবুন্ নেছা এ রায় ঘোষনা করেন। রায় ঘোষনার সময় আসামী র্আজিনা আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে ফেনী জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালত সুত্র ও মামলার এজাহার সুত্র জানায়, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আবু বক্কর ও তার মেজ ভাই মাওলানা মো. আবুল বশর একই বাড়ীতে পাশাপাশি ঘরে বসবাস করেন। আবুল বশর ও তার স্ত্রী র্আজিনা বেগমের সাথে র্দীঘদিন যাবত পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝগড়া হতো। এ নিয়ে গ্রামের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ওগন্যমান্য ব্যক্তির্বগের মাধ্যমে সালিশে আলোচনা ওনিস্পত্তি হয়। কিন্তু এরপরও আবুল বশরের স্ত্রী র্আজিনা আক্তার তার ভাসুরের পরিবারকে ভাল চোখে দেখতেন না
এবং কোন ভাল আচরন বা ভাল ব্যবহার করতেন না।জিনিষপত্র চুরি করে নিয়ে যেতেন। স্বামী আবুল বশরের আশ্রয়ে ও প্রশ্রয়ে র্আজিনা এসব করতে সাহস পেতেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ভাসুর আবু বক্করের ছেলে ভিকটিম তিন বছর বয়সী মো. তরিকুল ইসলাম বাড়ীর উঠানে খেলাধুলা করাকে কেন্দ্র করে র্আজিনা আক্তারের সাথে ওই শিশুর মায়ের ঝগড়া হয়। একই বছর ২১ নভেম্বর (২০১৯) সন্ধ্যার সময় আবু বক্করের তার ছেলে তরিকুল ইসলামকে বাড়ীর উঠানে রেখে মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। ফিরে এসে ছেলেকে না পেয়ে বাড়ীর অন্যরা সহ খোঁজাখুজি শুরু করে।
পরে এক র্পযায়ে বাড়ীর সীমানা প্রাচীরের বাইরে জমির আইলে শিশু তরিকুলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের র্কতব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। খবর পেয়ে পরশুরাম থানা পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের র্মগে প্রেরন করেন এবং ২১/০৩/২২ ইং থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়। পরে ২৩ নভেম্বর ওই শিশুর বাবা মাওলানা আবু বক্কর বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরশুরাম মডেল থানার উপপরির্দশক (এসআই) ও মামলার তদন্ত র্কমর্কতা রিযাউল জব্বার ১৪ জন সাক্ষীর ১৬১ ধারায় জবানবন্দি গ্রহন করেন। তদন্ত চলা কালেই র্আজিনা আক্তারকে গ্রেপ্তারের পর তিনি ২৪ নভেম্বর ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তানিয়া ইসলামের আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।
তদন্ত শেষে তিনি শিশু তরিকুল হত্যার ঘটনায় চাচী র্আজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে র্আজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
আদালতে মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়।
ফেনী জেলা জজ আদালতের সরকারী কৌঁসুলী (পিপি) হাফেজ আহম্মদ শিশু তরিকুল ইসলামকে হত্যা মামলায় চাচী র্আজিনা আক্তারের যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা র্অথদন্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দানের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রায় ঘোষনার পর আসামীকে ফেনী জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









