বিশেষ সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও ছেলে মো. ইয়াছিনের কোন সন্ধান পায়নি তার বাবা-মা সহ পরিবার।
ছেলেকে জীবিত বা মৃত হলেও পাওয়ার জন্য ঘটনার পর পর সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ইয়াছিনের বাবা বদিউল আলম। খুঁজেছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। কিন্তু ছেলের কোন সন্ধান বা খোঁজ পাননি। বাবা বদিউল আলম তখন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনাও দিয়ে এসেছিলেন।
তার বাবা জানান, নিখোঁজ ইয়াসিন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোর একজন লরি চালক ছিলেন। গত জুন মাসের ৫ তারিখ রাতে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পর আগুনের ঘটনার পর থেকে ইয়াসিন নিখোঁজ রয়েছেন। ওই ঘটনার এক দিন পরই তার বাবা বদিউল আলম ছেলের খোঁজের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দিয়েছেন। লাশের খোঁজের জন্য কয়েক দিন চট্টগ্রামে অবস্থান করে শেষ ভগ্ন হৃদয়ে বাড়ী ফেরেন।
নিখোঁজ ইয়াসিনের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামে। ৪ বোন ৩ ভাইয়ের মধ্যে ইয়াসিন ছিলেন তৃতীয়। ইয়াসিনের বাবা বদিউল আলম জানান, প্রায় দশ বছর আগে ইয়াসিন সীতাকুণ্ড বিএম কন্টেইনার ডিপোতে গাড়ি চালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় দুই বছর আগে থেকে ইয়াসিন পদোন্নতি পেয়ে বিএম কন্টেইনার ডিপোর লরি চালক হন।
বিস্ফোরনের ঘটনার সময় ইয়াছিন ডিপোতেই ছিল।
নিখোঁজ ইয়াসিনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ ইউসুফ (১৮) জানান, ওই বিস্ফোরণের দিন রাতে ডিপোতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইয়াসিন। আগুনের সেই দৃশ্য তিনি তাঁর মুঠোফোনে লাইভ দিয়েছিলেন। সেই লাইভ দেখে মোহাম্মদ ইউসুফ তাকে আগুনের সংবাদ জানতে ফোন দিয়েছিলেন। তখন ইয়াসিন তাঁর মুঠোফোনে চাচাতো ভাই ইউসুফকে বলেছিলেন আগুনের ভয়াবহতা অনেক। আমার জন্য দোয়া করিস। এর কিছুক্ষন পরেই তাঁর লাইভ বন্ধ হয়ে যায়। মুহূর্তেই অন্ধকার হয়ে যায় মুঠোফোনের পর্দা। এর পর থেকেই খোঁজ নেই মোহাম্মদ ইয়াসিনের।
অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের পর দিন দুপুর থেকে নিখোঁজ ইয়াসিনের বাড়িতে স্বজনরা কান্নাকাটি শুরু করে। এখনো থামেনি মায়ের শোক। একটানা কান্নায় মায়ের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। শোকে যেন তিনি পাথর হয়ে গেছেন মা বিবি জহুরা বেগম। এখন আর চোখের পানি নেই। দিনের বেশীর ভাগ সময় ঘরের সামনের ডেলনায় আনমনা বসে থাকেন। এখন কাউকে দেখলেই বলেন, তোমাগো কাছে টাকা পয়সা বা অন্য কোন কিচ্ছু চাইনা। আমার বুকের ধনরে (ছেলে) আনি দাও।
ইয়াসিনের বাবা বদিউল বলেন, ৪-৫ জন লোক মিলে সীতাকুণ্ড বিএম কন্টেইনার ডিপো, চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে তন্নতন্ন করে খুঁজেছেন ইয়াসিনকে। কিন্তু কোন খোঁজ পাননি। ছেলের খোঁজে তাঁর বাবা চট্টগ্রামে গিয়ে দুই দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনাও দিয়ে এসেছেন। কিন্তু এরই মধ্যে চার মাস পেরিয়ে গেছে।
এখন তাকে আর জীবিত পাওয়ার আসা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের চাওয়া অন্তত একটা খোঁজ।
কয়েক দিন আগেও ছেলের কোন খোঁজ খবর পাওয়া যায় কিনা সেটা জানার জন্য বাবা বদিউল আলম চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। তখন তাঁকে জানানো হয়েছে – এখনো ১৪ টি রয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে অবশ্যই জানানো হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”
- » ফরহাদনগরে ছাত্রদল নেতা জিয়া উদ্দিনের ভয়ে বসতবাড়ি ছেড়ে পথে ঘুরছে বৃদ্ধা দুই অসহায় বোন
- » বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটির পরিচিতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সভা
- » বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রোডমার্চ ফেনী ছাড়লো- দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত
- » সাপ্তাহিক ফেনী সংবাদ এর প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত









