শাহজালাল ভূঁঞা :
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় ফেনীতেও প্রচারণায় এবং সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে মামলা ও আভ্যন্তরীণ দ্বন্ধে জর্জরিত হওয়ায় চারদলীয় জোট বিএনপি-জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতায় রয়েছে দুর্বলতা।
ফেনীর ৩টি আসনে প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাসদ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারনায় আগাম মাঠে নেমেছে। এসব দলের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঠে ময়দানে সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পদচারণার ঢেউ শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত গ্রামের বাজারেও লেগেছে।
গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঈদ পূনর্মিলনীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি উপহার ও অনুদান দিয়ে কৌশলে তৃনমূল নেতাকর্মীদের সাথে যোগযোগ রক্ষা ও গনসংযোগ করে নিজেদেরকে আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন। এতে করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কদর বেড়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
রাজনীতির মাঠে সভা, সমাবেশে প্রতিটি দলের নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে তাদের দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করছেন। চা দোকান, স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ সর্বত্রই প্রার্থীদের আলোচনা চলছে। কারা হবেন তিনটি আসনে কর্ণধার।
১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ নির্বাচনী এলাকায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাসদ নেত্রী শিরিন আখতার।
ফেনী-২ নির্বাচনী এলাকায় ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়নাল আবেদিন হাজারী, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন (ভিপি) ও ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ফেনী-৩ নির্বাচনী এলাকায় ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী প্রয়াত আলহাজ্ব মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ও মাহবুবুল আলম তারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ারকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রহিম উল্যাহ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নির্বাচন অফিস, ভোটার, সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সূত্রে জানা যায়, ফেনী-১ (২৬৫) (ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, পরশুরাম) আসন ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮৯ হাজার ৫শ ৬৭ জন। ১৯৯১ সাল থেকে বিগত ৯ম সংসদ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থী হিসেবে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করে জয়লাভ করেছিলেন। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় দশম সংসদ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী জাসদ নেত্রী শিরিন আখতার বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়া এক লাখ ১৪ হাজার ৪শ ৮২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রয়াত ফয়েজ আহাম্মদ চেয়ারম্যান পান ৫৮ হাজার ৫শ ৫১ ভোট। তাই এই আসনটি বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন করলে বেগম খালেদা জিয়াই দলীয় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু তালেব, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুর আহম্মদ মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন।
অপরদিকে মহাজোট থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য জাসদ নেত্রী শিরিন আখতার এর মনোনয়ন অনেকটা চুড়ান্ত হলেও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চায় দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন। আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম। পাশাপাশি দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে লবিং তদবির করে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী জাফর ইমাম, ঢাকা মহানগর যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, হজ্ব এজেন্সীর (হাব) মহাসচিব শেখ আবদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার মজুমদার তপন, ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল।
এছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা নাজমা আক্তার, জামায়াত ইসলামী থেকে দলের ফেনী জেলা আমীর একেএম সামছুদ্দিন আহাম্মদ ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা দিদারুল আলম মজুমদারের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল জানান, দলের তৃণমুল নেতাকর্মীদের দাবি হচ্ছে দল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের কারণে সাধারণ জনগণও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মুখিয়ে রয়েছেন।
বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল আহাম্মদ মজুমদার জানান, ফেনী-১ নির্বাচনী এলাকায় বেগম খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় অন্য কোন প্রার্থীর নাম চিন্তাও করা যায় না। এটি খালেদা জিয়ার পারিবারিক সিট। খালেদা জিয়ার রাজনীতির শুরু থেকেই এ সিটে নির্বাচন করছেন।
ফেনী-২ (২৬৬) (ফেনী সদর) আসন ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ২৯ হাজার ৫শ ২০ জন। ফেনী-২ নির্বাচনী এলাকায় ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়নাল আবেদিন হাজারী, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন (ভিপি) ও ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন (ভিপি) এক লাখ ২০ হাজার ২শ ৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী পান ৮৬ হাজার ৭শ ১৩ ভোট। বিজেপি ও খেলাফতের প্রার্থী থাকলেও তারা জামানত হারান। এটি সদর আসন হওয়ায় বরাবরই এ আসনে নির্বাচিত সদস্যরা জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর নামই আলোচনায় শীর্ষে রয়েছে। তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ আজ সুসংগঠিত রয়েছে। জেলার ৬টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভাসহ ছাগলনাইয়ার রাধানগর ইউনিয়ন ছাড়া অন্যসবকটি ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় প্রার্থীরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তাঁর বিকল্প প্রার্থী নেই বলে নেতাকর্মীরা জানান। তবে প্রকাশ্যে প্রার্থী হিসেবে কারো নাম আলোচনায় না থাকলেও মনোয়ন পেতে লবিং তদবির চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীসহ দলের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয়, স্থানীয় নেতা ও শিল্পপতি।
এদিকে ফেনীতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মামলা-হামলা ও আভ্যন্তরীণ দ্বন্ধ-কোন্দলে জর্জরিত। প্রকাশ্যে কোন সভা-সমাবেশে না থাকলেও নির্বাচনে বিএনপি থেকে সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন (ভিপি), সাবেক সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ঢাকা মহানগর যুবদল নেতা রফিকুল আলম মজনু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন মিস্টার ও জেলা যুবদল সভাপতি গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিশে সূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা। অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার নজরুল ইসলামকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি বলেছেন, এক সময়ের অশান্ত ফেনী এখন সারাদেশে শান্তি ও উন্নয়নের শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এছাড়াও অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে ফেনীতে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সুসংগঠিত।
অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন (ভিপি) জানিয়েছেন, তিনি তিনবারের এমপি ছিলেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন।
ফেনী-৩ (২৬৭) আসন সোনাগাজী-দাগনভূঞা উপজেলা নিয়ে করা হয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪৭ হাজার ৭শ ১৫ জন। ফেনী-৩ নির্বাচনী এলাকায় ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় একতরফা নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী রিন্টু আনোয়ারকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী রহিম উল্যাহ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। সর্বশেষ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৯শ ৩৯ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল বাশার পান ৯৩ হাজার ৬শ ৩০ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী থাকলেও তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি।
জেলার অন্য দুইটি আসনের তুলনায় এ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী দলের মনোনয়ন পেতে লবিং তদবিরের পাশাপাশি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদের সময় নিজ দলীয় এবং নিজের অনুসারীদের ঈদ শুভেচ্ছা, উপহার বিতরণ, দর্শনীয় স্থানে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার সাঁটানোর বিষয়টি ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৯১ সাল থেকে নবম সংসদ পর্যন্ত এ আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও দশম সংসদ নির্বাচনে এই আসনে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহ ৫৭ হাজার ৬শ ১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্ধি মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার পান ১৫ হাজার ৩শ ৪১ ভোট।
একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল থেকে তরুণ নেতারা প্রাধান্য পাবে এমন আভাস পেয়ে যুবলীগ-ছাত্রলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় সাবেক ছাত্র ও যুব নেতা মাঠে তৎপর রয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন- নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকরাম হোসেন হুমায়ুন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এডভোকেট এম. শাহজাহান সাজু, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী এবং সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম। তবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও আওয়ামী লীগের দলীয় টিকিট পেতে পারেন বলে নানা গুঞ্জন রয়েছে। প্রার্থী হিসেবে দলীয় সমর্থন পেতে লবিং তদবির বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ হাজি রহিম উল্যাহও পিছিয়ে নেই।
এদিকে বিএনপি থেকে সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছাদরেজ জামান, মহিলা দল নেত্রী বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহেনা আক্তার শানু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রবাসী মো. সোলায়মান ভূঞা, ওয়ান ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে ফেনী-৩ নির্বাচনী আসনটি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াত ইসলামের আমির মকবুল আহমদের নিজ এলাকা হওয়ায় তাঁর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফখরুদ্দিন মানিককেও জোটের প্রার্থী হিসেবে পেতে তৎপর রয়েছে জামায়াত শিবির নেতা-কর্মীরা।
এদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রচার ও প্রকাশনা উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ারকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা হাজি রহিম উল্যাহ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমান মাঠে সরব রয়েছেন রিন্টু আনোয়ার। অপরদিকে জাসদ (রব) এর কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশার বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশে মহাজোট এর শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থীর জন্য গত নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলাম। কারণ আমি জাতির জনকের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করি এবং দলের যেকোন সিদ্বান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই এবারও আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছাদরেজ জামান বলেন, বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে তটস্থ রয়েছেন। তাই নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে দল যাঁকে মনোনয়ন দিবে তিনিই প্রার্থী হিসেবে চুডান্ত হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”









