স্টাফ রিপোর্টার :
অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। তবে অকাল বন্যায় আমন ধান, শীতকালীন সবজি, গ্রামীণ সড়ক সমূহের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বাজারের দোকান-পাটে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীদের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ না হলেও ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এ বন্যায়।
সম্প্রতিক বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া নদীর ৮টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের ফলে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, তিন দিনের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি পরশুরাম উপজেলার গতকাল মঙ্গলবার উন্নতি হয়েছে। উপজেলার সড়কগুলো থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি জানান, অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলায় ১ হাজার ৪০ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৩০ হেক্টর শীতকালীন সবজি, ২৮৩টি পুকুর ভেসে গেছে, ৬টি পোল্ট্রি খামার ও একটি গরুর খামার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরশুরাম উপজেলার জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং ত্রান সহায়তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
ফুলগাজী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, পাহাড়ী ঢলের পানিতে ১৮টি গ্রামের ২ হাজার ৬’শ হেক্টর রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মৎস্য কর্মকর্তা জানায়, উপজেলার প্রায় ২৮৬টি পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফুলগাজীতে ১৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেগুলিতে সাময়িকভাবে শ্রেণি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রাখা হলে মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুলগাজী উপজেলার জন্য ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ এক লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং ত্রান সহায়তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ জুলাই মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধের ৮টি স্থানে ভাঙ্গনের ফলে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়। সে ক্ষতির রেশ না কাটতেই গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় প্রায় ২০ কোটি টাকা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মেলাঘর গ্রামের কৃষক নুরুল আলম জানান, রোপা আমনে কয়েকদিন আগে সার দিয়েছি। থোড় (ফুল) আসতে শুরু করেছিল মাত্র কিন্তু তার আগেই বন্যায় সব নিয়ে গেছে।
চিথলিয়া ইউনিয়নের ধনীকুন্ডা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য খামারের মালিক ফারুক আহমেদ বলেন, তার দুইটি পুকুরের ৩০লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। তিনি সরকারের কাছে স্থায়ীভাবে এসব বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল
- » ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ফেনীতে বিএনপি’র বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, সমাবেশ “গণহত্যার দ্রুত বিচার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি”
- » ফরহাদনগরে ছাত্রদল নেতা জিয়া উদ্দিনের ভয়ে বসতবাড়ি ছেড়ে পথে ঘুরছে বৃদ্ধা দুই অসহায় বোন
- » বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নতুন কমিটির পরিচিতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সভা
- » বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রোডমার্চ ফেনী ছাড়লো- দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত
- » সাপ্তাহিক ফেনী সংবাদ এর প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত









