বিশেষ প্রতিনিধি :
ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আজিজ আহম্মদ চৌধুরী আগামী ২০ ডিসেম্বর পাঁচ বছর পূর্ণ করতে চলেছেন। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের ব্যক্তি হিসেবে তিনি ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাঁর যোগদানের পরই নড়েচড়ে বসে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নির্জীব প্রতিষ্ঠানটি যেন প্রাণ ফিরে পায়। বাড়ে জনমুখিতা। সেবা পৌঁছে জনগণের দোরগোড়ায়। জেলা পরিষদের মাধ্যমে এতোসব উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়- এতদিন এসব ছিল সাধারণ মানুষের অজানা। আজিজ আহম্মদ চৌধুরীর হাত ধরেই জেলা পরিষদের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রসারিত হতে থাকে চারদিকে। তৃণমূলে পৌঁছে উন্নয়নের ছোঁয়া। মাঠ পর্যায়ের প্রায় সব উন্নয়ন প্রকল্পেরই সরেজমিনে খোঁজ-খবর নেন তিনি নিজেই। প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে প্রশাসকের কঠোর নজরদারি। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও গাফেলতির তাঁর কাছে নেই কোনো ছাড়। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে আজিজ আহম্মদ চৌধুরীর বিগত পাঁচ বছরে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা হল।
জেলা পরিষদ ও উপকারভোগীদের তথ্যমতে, বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ২২ কোটি টাকার ছোট-বড় প্রায় ১৫০০ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এছাড়াও চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে আরো প্রায় ১০০টি প্রকল্প। জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। গ্রামীণ রাস্তাঘাট, অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিভিন্ন মসজিদ, মক্তব, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন, পুল-কালভার্ট নির্মাণ, পানি নিস্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ ও নিরাপদ পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের মাঝে অনুদান, গরীব-মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের এককালীন শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, শিক্ষাক্ষেত্রে হতদরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদান, সমাজে অসহায় দুঃস্থদের মাঝে অনুদান প্রদান, গৃহ নির্মাণের জন্য অনুদান প্রদান, গরীব মেয়ের বিবাহের জন্য অনুদান প্রদানসহ জেলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে এগিয়ে নিতে বরাদ্ধ প্রদান করা হয়।
যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বেকার যুবক-যুবতী জেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ২৭জন শহীদের স্মরণে ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের জামমুড়া গ্রামে গণকবরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়, একই ইউনিয়নের মাইজ গ্রামে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত সাত শহীদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল আমিন আহমদ চৌধুরী স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, শহীদ মেজর সালাহ উদ্দিন বীর উত্তম স্মরণে তাঁর ছবি ও জীবনী সম্বলিত ফেনী শহরের সালাহ উদ্দিন মোড় এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মজুপুর গ্রামে শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার ও শহীদ জহির রায়হানের বাড়ির সম্মুখে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ছাগলনাইয়া উপজেলার আঁধার মানিক গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ প্রায় ২০-২২টি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।
দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর জায়লস্কর গ্রামের কামার পুকুর থেকে বায়তুন নুর জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কটির জেলা পরিষদের অর্থায়নে সলিং করা হয়। ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল বাশার জানান, বর্ষাকালে মসজিদের মুসল্লি ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দুর হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে।
সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বিরলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম জানান, বিরলী উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজ আহম্মদ চৌধুরী বিদ্যালয়ে আকস্মকি পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে স্থান সংকুলান সংকট দেখে তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে কয়েক দফা অনুদান প্রদান করেন।
জেলা পরিষদের অর্থায়নে মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৫-৫০টি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের বাগেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের তাসলিমা আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, দীর্ঘদিন তাদের বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার ছিল না। ফলে জাতীয় দিবসে পুস্পামাল্য ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করতে পারতো না। অবশেষে শহীদ মিনার নির্মিত হওয়ায় আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারিতে পুষ্পমাল্য অর্পন করি। এছাড়া সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ লেমুয়ায় একটি গ্রামীণ সড়ক শহীদ গোলাম মোস্তফার নামে নামকরণ করে জেলা পরিষদের অর্থায়নে পাকা করা হয়। এতে করে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ উপকার ভোগ করছেন।
কায়সার ও রায়হান স্মৃতি পাঠাগারে সহ-সভাপতি আখতার হোসেন চৌধুরী বলেন, ফেনীর গর্বিত সন্তানদের সম্মান জানিয়ে ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজ আহম্মদ চৌধুরী নবাবপুরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার ও শহীদ জহির রায়হানের বাড়ির সম্মুখে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। এতে শহীদ পরিবারের পাশাপাশি নবাবপুরবাসী কৃতজ্ঞ।
জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজিব খগেশ দত্ত বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে আজিজ আহম্মদ চৌধুরী দায়িত্বভার গ্রহণের পর আমরা জানতে পারলাম জেলা পরিষদ থেকে সরকারি অনুদান প্রদান করা হয়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার বেশিভাগ মন্দিরে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়নে অর্থবরাদ্ধ প্রদান এবং প্রত্যক্ষভাবেও খোঁজ-খবর রাখেন।
স্মরণীয় ও বরণীয় দেশের গুণীজনদের সম্মান প্রদর্শন করে প্রশংসিত হয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক। তিনি প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর জেলা পরিষদ মিলনায়তনটি দেশের সোনালী সন্তান নাট্যচার্য ড. সেলিম আল দীন মিলনায়তনের নামে নামকরণ করেন এবং মিলনায়তনটি সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিককায়ন করা হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ফেনী শাখার সভাপতি মাহবুব আলতমাস বলেন, নাট্যচার্য ড. সেলিম আল দীন মিলনায়তনের নামে নামকরণ করে তিনি একজন গুণী ব্যক্তিকে সম্মানিত করেছেন। এজন্য তিনি প্রশংসার দাবিদার।
পরশুরাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল করিম মজুমদার বাদল বলেন, পরশুরামে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্মিত মিলনায়তনটি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আজিজ আহম্মদ চৌধুরী জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ার পর সংস্কার করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ শহীদ শেখ কামালের নামে মিলনায়তনটির নামকরণ করেন।
ফেনী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর হোসেন বলেন, দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ পরিবারের গর্বিত সন্তান দলের জন্য ত্যাগী, যোগ্য ব্যক্তি আজিজ আহম্মদ চৌধুরী ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি বিগত সময়ে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ায় সরকার ও আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে ও ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে তাঁর মত সৎ, দক্ষ ও নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তির প্রয়োজন রয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজ আহম্মদ চৌধুরী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আস্থা ও বিশ্বাসের সহিত জেলা পরিষদকে জনমুখী করার জন্য আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সারাদেশে ৬১জন প্রশাসক নিয়োগ দেন। জেলা পরিষদ সরকারের সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম। আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রীর আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর ভরসা রেখে এটাকে সেবা হিসেবে গ্রহণ করে সততা ও নিষ্ঠার সাথে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাড়া-মহল্লায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছি এবং সফলকামও হয়েছি। তবে জেলা পরিষদের কারিগরী শাখায় লোকবল কম থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে হিমশিম খেতে হয়। সরকার ও দলের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষে বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » জরিমানার অর্থ ফেরতের আদেশ
- » বাংলাদেশ সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত
- » ফেনী বন্ধুসভার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ
- » আমার দেশ সম্পাদকের রত্নগর্ভা মাতা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মাগফিরাত কামনায় ফেনীতে দোয়া
- » গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
- » ফেনীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংবাদিকদের উপর হামলার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস
- » জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যানের উপর হামলা, সংবাদ সম্মেলন
- » ফেনী পৌর বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন
- » ফেনীতে হেফাজতের দোয়া মাহফিলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী- ‘আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকলে দেশে আর ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হবে না’
- » ফেনীতে হাফেজ তৈয়ব রহ. স্মরণে দোয়ার মাহফিল









