সীতাকুন্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণ
স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রামের সীতাকু-ের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পাঁচ মাস গত বুধবার রাতে ছেলের লাশ বুঝে পেয়েছেন বাবা। বিএম কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষ বিস্পোরনের পর অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত মো. ইয়াছিনের লাশ তাঁর বাবা বদিউল আলমের কাছে বুঝিয়ে দেন। এ সময় ফুলগাজী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবুল হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নিখোঁজ ইয়াসিন চট্টগ্রামের সীতাকু- বিএম কনটেইনার ডিপোর একজন লরি চালক ছিলেন।
অবশেষে নিখোঁজের পাঁচ মাস চার দিন পর ছেলের লাশ তারা বুঝে পেয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় ইয়াছিনের লাশ শনাক্ত হওয়ার পর গত মঙ্গলবার সীতাকু-ের বিএম কন্টেইনার ডিপোর কর্মকর্তারা ইয়াছিনের বাবা বদিউল আলমকে ফোন করে ছেলের লাশ বুঝে নিতে ফোন করেন। ফোন পেয়ে গত বুধবার ভোরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেনকে সাথে নিয়ে সীতাকুন্ডের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ডিপো কর্তৃপক্ষ বাবার কাছে ছেলের লাশের কফিন বুঝিয়ে দেন।
গত ৫ জুন রাতে চট্টগ্রামের সীতাকু-ের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তারপর থেকে ছেলে মো. ইয়াছিনের কোন সন্ধান পায়নি তার বাবা-মা সহ পরিবার। ছেলেকে জীবিত বা মৃত পাওয়ার আশায় ঘটনার পর পর সীতাকু- ও চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ইয়াছিনের বাবা বদিউল আলম। খুঁজেছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। কিন্তু ছেলের কোন খোঁজ পাননি। বদিউল আলম তখন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনাও দিয়ে এসেছিলেন।
বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পর আগুনের ঘটনার পর থেকে ইয়াসিন নিখোঁজ ছিলেন। ওই ঘটনার এক দিন পরই তার বাবা বদিউল আলম ছেলের খোঁজের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। লাশের জন্য কয়েক দিন চট্টগ্রামে অবস্থান করে শেষ ভগ্ন হৃদয়ে বাড়ী ফেরেন।
ইয়াসিনের বাবা বদিউল আলম জানান, প্রায় দশ বছর আগে ইয়াসিন সীতাকু- বিএম কন্টেইনার ডিপোতে গাড়ি চালকের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রায় দুই বছর আগে থেকে ইয়াসিন পদোন্নতি পেয়ে বিএম কন্টেইনার ডিপোর লরি চালক হন। বিস্পোরণের ঘটনার সময় ইয়াছিন ডিপোতেই ছিল। নিখোঁজ ইয়াসিনের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ ইউসুফ (১৮) জানান, ওই বিস্ফোরণের দিন রাতে ডিপোতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইয়াসিন। আগুনের সেই দৃশ্য তিনি তাঁর মুঠোফোনে লাইভ দিয়েছিলেন। সেই লাইভ দেখে মোহাম্মদ ইউসুফ তাকে আগুনের সংবাদ জানতে ফোন দিয়েছিলেন। তখন ইয়াসিন তাঁর মুঠোফোনে বলেছিলেন আগুনের ভয়াবহতা অনেক। আমার জন্য দোয়া করিস। এর কিছুক্ষন পরেই তাঁর লাইভ বন্ধ হয়ে যায়। মুহুর্তেই অন্ধকার হয়ে যায় মুঠোফোনের পর্দা। এর পর থেকেই খোঁজ নেই মোহাম্মদ ইয়াসিনের।
অগ্নিকা- ও বিস্ফোরণের পর দিন দুপুর থেকে নিখোঁজ ইয়াসিনের বাড়িতে স্বজনরা কান্নাকাটি শুরু করে। থামেনি মায়ের শোক। একটানা কান্নায় মায়ের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। শোকে যেন তিনি পাথর হয়ে গেছেন মা বিবি জহুরা বেগম। এখন আর চোখের পানি নেই। দিনের বেশীর ভাগ সময় ঘরের সামনের ডেলনায় আনমনা বসে থাকতেন। তখন কাউকে দেখলেই বলতেন, তোমাগো কাছে টাকা পয়সা বা অন্য কোন কিচ্ছু চাই না। আমার বুকের ধনরে (ছেলে) আনি দাও।
বদিউল আলম বলেন, জীবিত পাওয়ার আসা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছেন। কয়েক দিন আগেরও ছেলের কোন খোঁজ খবর পাওয়া যায় কিনা সেটা জানার জন্য বাবা বদিউল আলম চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন। তখন তাঁকে জানানো হয়েছিল আরও কয়েকটি লাশ রয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে অবশ্যই জানানো হবে। অবশেষে ছেলের লাশ পেয়ে বলেন, অন্তত নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে ছেলের কবর হবে। এটাই এখন শান্তনা। গতকাল বৃস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে তার লাশ ফুলগাজীর গোসাইপুর গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।
নিখোঁজ ইয়াসিনের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামে। চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে ইয়াসিন ছিলেন তৃতীয়।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » ফুলগাজীর মাদক-কারবারিকে নিয়ে সংবাদ করায় দৈনিক ফেনীর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
- » ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শেখ নুর উল্ল্যা হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ
- » ফেনীর ফুলগাজীর ৩৩ টি পূজা মন্ডপে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব, চলছে শেষ মুহুর্তে মন্ডপে সাজসজ্জার কাজ
- » ফেনীর ফুলগাজীতে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি ইয়ুথনেটের
- » ফেনীর ফুলগাজীতে স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ শীর্ষক সেমিনার ও প্রদর্শনী
- » ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : মো. হারুন মজুমদার চেয়ারম্যান, অনিল বনিক ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত
- » ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন এর ইফতার ও কমিটি পূণঃগঠন
- » ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুলগাজীর আনন্দপুরে শর্টপিস ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট
- » ফুলগাজীতে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
- » সবসময় ফেনী- ১ আসনের জনগণের পাশে থাকবো -জাপা নেতা শাহরিয়ার ইকবাল









