স্টাফ রিপোর্টার :
ধর্ষণের কথা মাকে বলে দিবে বলার পর ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তারপরও হত্যার ঘটনাটি নিশ্চিত করতে ওই ঝোপজঙ্গলে থেকে গাছের মোটা লতা দিয়ে শক্ত করে গলা পেঁচিয়ে এবং গলা হলে একটি লতা টানা দিয়ে শিশুর হাটুর সাথে বেধেঁ পাশের কড়ই গাছের সাথে হেলান দিয়ে রেখে সে (আসামী) পালিয়ে যায়।
শিশুটি বেলা সাড়ে ১০টার দিকে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাইরে গেলে গ্রামের আনোয়ার হোসেন ওরপে স্বপন (৩৫) নামে এক ব্যক্তি শিশু শিক্ষার্থীর (৬) মুখ চেপে ধরে কোলে করে বিদ্যালয়ের অদুরে পুকুর পাড়ের কবরস্থানের ঝোপজঙ্গলের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক কায়দায় ধর্ষণ করা হয়। শিশুটি কাঁদতে শুরু করে এবং মাকে বলে দিবে বলে জানালে আনোয়ার ক্ষিপ্ত হয়।
রোববার, ২৬ জুন বিকেল সাড়ে ৫টায় ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং কালে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লার ওই আসামীর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি উদ্ধৃত করে উপরোক্ত কথা গুলি বলেন।
এসময় ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নাহিদা ফারজানা, সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী-দাগনভূঁঞা) সার্কেল মাশকুর রহমান, দাগনভূঁঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান ইমাম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. মোজবাহ উদ্দিন আহম্মদ, ফেনী কোর্ট পারিদর্শক গোলাম জিলানী উপস্থিত ছিলেন।
তার আগে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামী আনোয়ার হোসেন ওরফে স্বপন ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এরপর তাকে পুলিশ পাহারায় ফেনী জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে ফেনীর দাগনভূঁঞার জায়লস্কর ইউনিয়নের নেয়াজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিফতাহুল জান্নাত অফরা (৬) নামে একজন শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের পিছনের পুকুর পাড়ের আধা জঙ্গল জাতীয় স্থানে এক গাছের গোড়ায় গলায় লতা পেচাঁনো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পরই এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন স্বপন (৩৫) নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
এদিকে রোববার দুপুরে ফেনী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতারেল মর্গে ওই শিশু শিক্ষার্থীর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে গ্রামের বিদ্যালয় মাঠে শিশুটি জানাযা শেষে তার পৈত্রিক পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। এসময় দাগনভূঁঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবীর রতন, স্থানীয় জায়লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিলন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেয়।
দাগনভূঁঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান ইমাম জানান, শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামী আনোয়ার হোসেন স্বপনের ফেনীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ নানা তথ্য উপাত্ত ব্যবহারের মাধ্যমে হত্যার ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই আসামী গ্রেপ্তার ও তার স্বীকারোক্তি আদায় সম্ভব হয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » উত্তর চন্ডিপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি এম. আনোয়ারুল ইসলাম
- » দাগনভূঞায় ভারতীয় নাগরিকের নামে ভূয়া দলিল তৈরি করে জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
- » দাগনভূঞায় পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহক সমাবেশ ও গণশুনানি
- » দাগনভূঞায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে দোয়া ও মিলাদ
- » দাগনভূঞায় যুবদল নেতা নাছিরের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ বিতরণ
- » মরহুম আব্দুল হাই মিলনের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা ও দোয়া
- » ফেনীর দাগনভূঞায় ট্রাক-অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত দুই
- » দাগনভূঞায় জাকের মালদার ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার বিতরণ
- » অবশেষে কাটতে যাচ্ছে দুই যুগের অনিশ্চয়তার কালো মেঘ: ডিপিপিভুক্ত হলো দাগনভূঞা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প
- » দাগনভূঞা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমাম, সেক্রেটারি কাজী ইফতেখার









