ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৭ জন। নিয়ম অনুযায়ী জামানত ফিরে পেতে কোনো প্রার্থীকে অন্তত ১৭ হাজার ৪০৩ ভোট পেতে হতো।
.
বিশেষ প্রতিনিধি,
ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনই জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, মোট কাস্টিং ভোটের (বৈধ ভোট) আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কেবল বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ছয়জন প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন।
ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৭ জন। নিয়ম অনুযায়ী জামানত ফিরে পেতে কোনো প্রার্থীকে অন্তত ১৭ হাজার ৪০৩ ভোট পেতে হতো। ঘোষিত ফলে দেখা যায়, বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট এবং জামায়াতের অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন।
অন্যদিকে জামানত হারিয়েছেন ৫ প্রার্থী। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা) ৫ হাজার ৩২৩, জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙ্গল) ৯৪০, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঞা (বটগাছ) ৩১০, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব) ২১৫ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (হারিকেন) ১৮৮ ভোট।
ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ২৯ হাজার ২০৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। জামানত ফিরে পেতে এই আসনে প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল অন্তত ১৮ হাজার ৩৩৬ ভোট। ঘোষিত ফলে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট এবং ১১ দলীয় জোট থেকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ‘ঈগল’ প্রতীকে ৮০ হাজার ৫৮ ভোট পেয়ে জামানত টিকিয়ে রেখেছেন।
জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে বাকি ৯ প্রার্থীর। তাদের প্রাপ্ত ভোট হলেন, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা) ৬ হাজার ৮৪৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা) ৮২০, আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) ৮০১, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল (ঘোড়া) ৭০৩, গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক) ৪০৯, বাসদের (মার্কসবাদী) জসিম উদ্দিন (কাঁচি) ৩২২, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ) ৩০৪, জেএসডির সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা) ২৪০ ও ইনানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম (আপেল) ২৩৯ ভোট।
ফেনী-৩ আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ জন ভোটার। জামানত ফিরে পেতে এখানে প্রয়োজন ছিল অন্তত ২২ হাজার ৬৩২ ভোট।
ঘোষিত ফলে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট এবং জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন।
জামানত হারিয়েছেন বাকি ৬ প্রার্থী। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন (হাতপাখা) ৬ হাজার ৭০১, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান (লাঙ্গল) ১ হাজার ৪২৭, বাসদের আবদুল মালেক (মই) ৭৩১, ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবু নাছের (চেয়ার) ৫৩১, ইনানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ (আপেল) ৩২৭ ও খেলাফত আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী (বটগাছ) ৩২০ ভোট।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ফেনীর তিনটি আসনে ৪২৮টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৪৩৯টি কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার তিনটি আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, নারী ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ৮ জন।
##
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
- » নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতারোধে যুবদল নেতা সুমনের ভুমিকা
- » ফেনীতে তিন শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ
- » জামায়াত কর্মীদের চারটি দোকান ভাঙচুর, কৃষকদলের নেতাকে অব্যাহতি
- » বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী ভিপি জয়নাল পরাজিত প্রার্থী মঞ্জুকে মিষ্টিমুখ করালেন
- » ফেনীতে ভোট দেয়ার অপরাধে তালাক দেয়া গৃহবধূর পাশে বিএনপি
- » খালেদা জিয়ার আসনে জয় লাভ করলেন মনজু
- » যেসব হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন..
- » পরিকল্পনা একটাই, সবাইকে নিয়ে ফেনীর উন্নয়ন করবো: মিন্টু
- » ফেনীর তিনটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয়
- » জরিমানার অর্থ ফেরতের আদেশ









